Home / দেশজুড়ে / এক ঘরেতে শঙ্ক বাজে অন্য ঘরে আজান
এক ঘরেতে শঙ্ক বাজে অন্য ঘরে আজান

এক ঘরেতে শঙ্ক বাজে অন্য ঘরে আজান

দেশজুড়ে নিউজ :  একই স্থানে মসজিদ- মন্দির। এই বিরল দৃষ্টান্ত  লালমনিরহাট জেলায়। মসজিদের আজান শুরু হতেই মন্দিরের পূজা-অর্চনাবন্ধ করা হয়।

দলে দলে মুসল্লিরা মসজিদে ঢুকে আদায় করছেন নামাজ। আবার  মন্দিরে ঢোল-তবলা ও পূজার সামগ্রী নিয়েঅপেক্ষমাণ হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু করেন পূজা-অর্চনার আনুষ্ঠানিকতা।

লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ি এলাকায় একই স্থানে অবস্থিত মসজিদ-মন্দিরে গিয়ে দেখা যায় এই চিত্র। একইস্থানে হিন্দুধর্মাবলম্বীরা মন্দিরে তাদেরপূজা পালন করছেন এবং পাশেই অবস্থিত মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আদায় করছেন নামাজ। জানা গেছে, ১৮৯৫ সালে প্রতিষ্ঠা হয় এই মন্দিরটি।

এর  পাঁচ বছর পর ১৯০০ সালে প্রতিষ্ঠা হয় মসজিদ। প্রায়  দেড় শত বছরধরে হিন্দ-মুসলমান মিলেমিশে তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছেন। প্রায় সময় লালমনিরহাট শহরে অবস্থিত একই উঠানে কালীবাড়ি মসজিদ-মন্দির পরিদর্শনে আসেন দেশি-বিদেশি অনেকপর্যটক।

এলাকার বয়োবৃদ্ধ আকমল মোল্লাহ (৭৮) জানান, বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির একটি অনন্য উদাহরণ লালমনিরহাটেরমসজিদ ও  কালীমন্দিরটি।  এক পাশে মসজিদ আরেক পাশে মন্দির।কালীবাড়ি মসজিদের মুয়াজ্জিন রফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের বাংলাদেশে লালমনিরহাট জেলায়  মসজিদ ও মন্দিরদুটি সম্প্রদায়ের দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আছে।

এখানে মসজিদে যথাসময়ে নামাজ হচ্ছে এবং মন্দিরে যথাসময়ে  ওনারা পূজাকরতেছেন। আমাদের মুসলিম ধর্মে হাদিসে কুরআনের ভাষায় অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ বা হিংসা অথবা আকর্ষণমূলক কিছুচলে না।অপরদিকে কালীবাড়ি মন্দিরের পুরোহিত নারায়ণ চন্দ্র জানান, পাকিস্তান আমল থেকে এভাবে চলতেছে।

এখানে আমাদেরযখন পূজা হয় ওদের নামাজের আগেই হয়। আর ওদের যখন নামাজ হয় তখন আমরা পূজা বন্ধ রাখি। বাংলাদেশের মধ্যেলালমনিরহাট জেলার মতো পাশাপাশি মসজিদ-মন্দির আর কোথাও নেই। বাংলাদেশের মধ্যে এ রকম হওয়া আরও উচিত।কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ সনদ চন্দ্র জানান, প্রায় দেড় শত বছর পার হয়ে গেল এই মন্দির প্রতিষ্ঠার।

বাপ-দাদার সময় থেকে আমরা এই স্থানে পূজা-অর্চনা করে আসছি। পাশেই মুসলমানদের মসজিদ থাকলেও আমাদেরপূজার কোনও সমস্যা হয় না।অপরদিকে, পুড়ান বাজার জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফজল মিয়া জানান, যখন মসজিদের আজান হয়তখন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখেন।

নামাজ শেষ হলে আবার তারা তাদের পূজা শুরু করেন। এই নিয়ম যুগ যুগ ধরেচলে আসছে।আজ পর্যন্ত এখানে হিন্দু-মুসলমানের ধর্ম পালনে কোনও সমস্যা সৃষ্টি হয়নি। আমরা যার যার ধর্ম সে পালনকরে আসছি।ধর্মীয় সম্প্রীতির এ বিরল দৃষ্টান্ত শুধু লালমনিরহাটে নয়, সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ুক এই প্রত্যাশা এখানকার মানুষের।

Check Also

সিলেটে র‌্যাবের ১৩ সদস্য কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত

নিউজ ডেস্ক: এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯) সিলেট সদর দপ্তরের ১৩ সদস্য নভেল কোভিড-১৯ ভাইরাসে …

%d bloggers like this: