Home / আর্ন্তজাতিক / ইরান মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠছে

ইরান মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠছে

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: গত শনিবার দুপুরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের এক অজ্ঞাত স্থান থেকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। গুপ্তহত্যার শিকার হওয়া থেকে বাঁচতেই নাকি তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি করেছেন হারিরি। আর তাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের পেছনে ইরানের হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ তার। তার দাবি ইরান পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়েই দ্বন্দ্ব-সংঘাত লাগিয়ে দিচ্ছে। ইরাক ও সিরিয়ায় জঙ্গি সংগঠন আইএস এর বিরুদ্ধে ভুমিতে লড়াই প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। আর এর মধ্যেই সৌদি আরব ও ইরানের বহু পুরোনো দ্বন্দ্ব এবার লেবাননে গিয়ে উপচে পড়ছে। গত কয়েকদশক ধরেই লেবাননের রাজনীতিতে ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে আসছে ইরান, সিরিয়া, সৌদি আরব, মিশর, তুরস্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া।

অনেকের ধারণা সৌদি আরবই সাদ হারিরিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার আদেশ দিয়েছে। কারণ ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে তিনি যে সরকার গঠন করেছিলেন তার কয়েকজন মন্ত্রী ইরানের মদদপুষ্ট হিজবুল্লাহর সদস্য। সৌদি আরবের আশঙ্কা আইএস পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির প্রধান নিয়ামক শক্তি হয়ে উঠতে পারে ইরান। আর সে কারণেই তারা লেবাননে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইরাক সরকারের আইএস বিরোধী লড়াইয়ে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়েছে ইরান এবং এমনকি প্রধান পরামর্শকও ছিল ইরান। আর সিরিয়াতে বাশার আল আসাদের সরকারকেও যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের দমণে সহায়ত করছে ইরান।

ইয়েমেনেও সৌদি আরব ও তার উপসাগরীয় মিত্রদের মদদপুষ্ট সরকারের বিরুদ্ধে হুথি বিদ্রোহীদের সহায়তা করছে ইরান। আর এই যুদ্ধের সুরাহা খুব শিগগিরই হচ্ছে না। এবং সেখানে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের বিজয়ের সম্ভাবনাও খুব কম। ইরান অনেক আগে থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে একজন বড় খেলোয়াড়। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরান সিরিয়ার আসাদ সরকারকে সহায়তা করে আসছে। প্রথমে হাফিজ আল আসাদ আর এখন বাশার আল আসাদকে সহায়তা করছে ইরান। ১৯৮২ সালে লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনের সময় সৃষ্টি হয় হিজবুল্লাহর। আর সেসময় থেকেই ইরান হিজবুল্লাহকে সহায়তা করে আসছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোট বাহিনী ইরাকে সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাতের পর থেকেই ইরান সেখানে প্রভাব বিস্তার করতে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রভাব বিস্তারে ইরানের আগ্রহ বহু পুরোনো এবং গভীর।

ইরানিরা তাদের ইতিহাসকে হাজার বছরের পুরোনো বলেই মনে করে। আর ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে যত কোনঠাসা করতে চেয়েছে ততই ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আরো প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। শুধু আরব রষ্ট্রগুলোই নয় বরং অনারব রাষ্ট্রগুলোর ওপরও ইরানের প্রভাব বেড়ে চলেছে। বর্তমানে তুরস্ক ও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে ইরান। লেবাননের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ বেইরুতের অধ্যাপক রামি খৌরি বলেন, ‘রাজা সাইরাসের সময় থেকেই ইরান একটি আঞ্চলিক পরাশক্তি। তারা জানে কীভাবে রাষ্ট্র ও রাজনীতি চালাতে হয়। ’

ইরানের তুলনায় সৌদি আরব এবং তার উপসাগরীয় মিত্ররা অনেক আনাড়ি। আর তারা এখন লেবাননে যা করছে তা করছে মূলত নিজেদেরকে শক্তিশালী হিসেবে দেখানোর জন্য। কিন্তু তাদের এই চেষ্টা বিফলে যাবে। ’ সৌদি আরব, ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছে ইরানি মদদপুষ্ট লেবাননের হিজবুল্লাহকে ধ্বংস করতে। কিন্তু তারা যতই এই চেষ্টা করেছে ততই হিজবুল্লাহ এবং ইরান আরো শক্তিশালী হয়ে উঠেছে লেবাননে। লেবাননের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হয়ে ওঠার পাশাপাশি হিজবুল্লাহ নিজেকে একটি দুর্ধর্ষ সামরিক সংগঠন হিসেবেও গড়ে তুলেছে। যার প্রমাণ ২০০০ সালে ইসরাইলি আগ্রাসন রুখে দেওয়ার মধ্য দিয়েই দিয়েছে তারা। ২০০৬ সালে ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে প্রতিরোধ করেছিল হিজবুল্লাহ। শৃঙ্খলা, প্রশিক্ষণ এবং আত্মোৎসর্গের দিক থেকে হিজবুল্লাহ আরব বিশ্বের অনেক সেনাবাহিনীর চেয়েও শক্তিশালী।

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইসরায়েল হিজবুল্লাহকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবেই দেখে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাস হিজবুল্লাহ এবং ইরান মিলেই ১৯৮৩ সালে বেইরুত হামলা চালিয়েছিল। যে হামলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৪১ জন সেনা ও ফ্রান্সের ৫৮ জন আধাসেনা নিহত হয়েছিল। এছাড়া ১৯৯৩ সালে আর্জিন্টিনার বুয়েনস আয়ারসের ইসরাইলি দূতাবাসে চালানো হামলার পেছনেও ইরানের হাত আছে বলে সন্দেহ করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলায় নিহত হন ২৯ জন ইসরাইলি। সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল লেবাননে হিজবুল্লাহর উত্থান ঠেকানোর মাধ্যমে ইরানের প্রভাব খর্ব করার চেষ্টা করছে ঠিকই। কিন্তু এই চেষ্টা খুব একটা সফল হবে বলে মনে হয় না। কেননা ১৯৭৫-১৯৯০-র গৃহযুদ্ধ এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সিরিজ যুদ্ধের পর দেশটির মানুষ আর কোনো রক্তপাত দেখতে চায় না হয়তো।

তবে, ছায়া যুদ্ধ কখনো জনগনের চাওয়া মেনে চলে না। ফলে আইএস পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যও আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে।

Check Also

বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ৯ লাখ ১৩ হাজার

নিউজ ডেস্ক : বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৮৩ লাখ ২৪ হাজার …

%d bloggers like this: