Home / বিনোদন / বাংলা গান / আসিফ-প্রীতম জুটি ভেঙে যাওয়ার নেপথ্যে

আসিফ-প্রীতম জুটি ভেঙে যাওয়ার নেপথ্যে

বিনোদন ডেস্ক: আসিফ ও প্রীতমের যৌথ প্রয়াসে অসংখ্য জনপ্রিয় গান রয়েছে। যেগুলো ছিল তুমুল হিট। শ্রোতাদের মুখে মুখে ফিরত। কিন্তু একসময় আসিফ-প্রীতমের দূরত্ব তৈরি হলো। ১২ বছর সে কারণ অজানা থাকলেও সম্প্রতি প্রীতম ফেসবুক লাইভে একজনের প্রশ্নের উত্তরে জানালেন সেই আড়ালে থেকে যাওয়া কথা।

প্রীতম বলেন, ২০০৫ সালে দেশে মঙ্গা চলছিল, সেই সময় ধুম্মা চলে সুরে বাংলাদেশে প্রায় ২০/২৫টি গান রিলিজ হয়েছিল। এর মধ্যে আসিফেরও একটা গানের সুর মিলে গিয়েছিল যেটা আমি করিনি, অন্য কেউ করেছে। ওই সময় একটি পত্রিকার সাক্ষাৎকারে আমাকে বলা হলো, সবাই ধুম্মা চলে টাইপ গান গাইছে আপনি কেন মঙ্গা নিয়ে গান করলেন? আপনি কি আবার জীবনে কমার্শিয়াল গানে ফেরত আসবেন? আমি বললাম যে না, এ ধরনের গান আমার পক্ষে গাওয়া সম্ভব না। দেশে একদিকে মানুষ মারা যাবে না খেয়ে আরেক দিকে আমি ক্লাবে ক্লাবে ধুম্মা চলে সুরে গান গাইব মেকাপ লাগিয়ে, এটা আমার পক্ষে সম্ভব না।

তিনি বলেন, ইন্টারভিউ প্রকাশের পরের দিন আসিফ আমাকে ফোন দিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ করলেন আমি নাকি তাকে নিয়েই বলেছি এবিং আমি তাকে উদ্দেশ্য করেই বলেছি। আসলে ইন্টারভিও এর ভেতরে তার কোনো নাম ছিল না কারণ ধুম্মা চলে সুরে তখন অসংখ্য গান বের হয়েছে শুধু একটা না আর আসিফের গান বের হয়েছে নাকি তখন আমি নিশ্চিত ছিলাম না।

পরবর্তীতে এটা নিয়ে সে সাউন্ডটেকে গিয়ে মালিক বাবুল সাহেবকে দিয়ে আমাকে ফোন দেয়ালো সাউন্ডটেকে যাওয়ার জন্য। আমি সাউন্ডটেকে যাইনি।প্রীতম বলেন, তারপর ওই পত্রিকার সম্পাদক সাহেবকে দিয়ে মীমাংসা করার চেষ্টা করা হলো। ওই সময় তিনি সাউন্ডটেকে গিয়ে সাউন্ডটেকে আমার গাওয়া যত অ্যালবাম ছিল, সবগুলো অ্যালবাম সে অ্যালবামের র‌্যাক থেকে ফেলে দিয়েছিল। ওই সময় আমার হ্যালো বন্ধু অ্যালবাম বের হয়েছিল, সেই অ্যালবামের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছিল এবং পত্রপত্রিকা থেকে শুরু করে সব জায়গায় আমার ইন্টারভিউ বন্ধ করে দিয়েছিল।

জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পী বলেন, চ্যানেল আইতে আমার সারেগামা নামের একটা প্রগ্রাম চলত সেটাও সাউন্ডটেকের প্রযোজনায়, সাউন্ডটেককে বলে সেখানকার প্রোগ্রাম সে বন্ধ করে দিয়েছিল। আমাকে নানা ধরনের হুমকি-ধমকি থেকে শুরু করে, আমার পরিবারের আমার স্ত্রীকেও নানা ধরনের কথা বলা হচ্ছিল এবং পরবর্তীতে এই বিষয় নিয়ে এমনভাবে উনি আক্রমণ করছিল, আমার কিছু বন্ধু গীতিকার, সুরকার তারা সেটার প্রতিবাদ করেছিল এবং তাদের সঙ্গেও সে অনেক খারাপ ব্যবহার করেছিল। যেমন শফিক তুহিন, আজমীর বাবু, প্রদীপ সাহা তাদের সাথেও আমার এই বিষয় নিয়ে তর্ক হয়েছিল যে, প্রীতম তো কিছু বলে নাই, তাকে নিয়ে কেন এত কথা বলা হচ্ছে।

প্রীতম লাইভে বলেন, যেহেতু তার গান আমি সব মন দিয়েই করতাম, ভালোবেসেই করতাম। আমার কোনো গানই তার জন্য খারাপ করে করি নাই। তারপর ও সে আমার শিল্পী হিসেবে বাদই দিলাম, আমি তার গানের গীতিকার সুরকার সংগীত পরিচালক ছিলাম। একটা গায়ক যখন একজন মিউজিক ডিরেক্টর এর সাথে এত বাজে ব্যবহার করে এবং তার ক্যারিয়ারকে দুমড়ে-মুচড়ে ফেলার চেষ্টা করে, তাকে নিয়ে আর কোনোদিন নতুন গান বানানো যায় না। যে লোকটা একটা গীতিকার, সুরকারকে সম্মান দিতে জানে না, তার জন্য গান করার কোনো মানে নেই।

Check Also

তামাকের বিরুদ্ধে “সিগারেট”

নাসিফ শুভ: স্লো পয়জন হিসেবে সিগারেট সারা বিশ্বব্যাপী পরিচিত। ধূমপানে একদিকে যেমন নিজের ক্ষতি হয়, …

%d bloggers like this: