Home / আর্ন্তজাতিক / আমেরিকায় যেভাবে হচ্ছে অনলাইন স্কুলিং

আমেরিকায় যেভাবে হচ্ছে অনলাইন স্কুলিং

নিউজ ডেস্কঃ শিক্ষাদীক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কূটনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সব দিক থেকে আমেরিকা বিশ্বে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। গত বছর ডিসেম্বরে চীনে যখন করোনার উপসর্গ দেখা দেয়, তারপর থেকে চীনসহ বিশ্বের প্রায় সবগুলো দেশ ধীরে ধীরে লকডাউন হয়ে যায়। এসময়ে অর্থনীতির চাকা না ঘুরলেও দেশে দেশে শিক্ষার চাকা ঘোরানোর জন্য ভার্চুয়াল জগতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাকে বলা হয় অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা। বিশ্ব মোড়ল রাষ্ট্র আমেরিকা বাচ্চাদের অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে পরিচালনা করছে, আজ সে গল্প শুনবো সে দেশে বসবাসকারী প্রবাসী একজন বাঙালির কাছে। তার নাম রায়হানা রহমান খান।

রায়হানা অনেক দিন হয় আমেরিকাতে আছেন। সেখানে তিনি ‘জনসন সিটি এলিমেন্টারি ইন্টারমিডিয়েট স্কুল’-এ শিক্ষকতা করছেন। চলতি বছর মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে করোনা মহামারির জন্য সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো তার স্কুলও বন্ধ হয়ে যায়। এ বন্ধের সময়ে কীভাবে চলছে তাদের স্কুল, সে বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন রাইজিংবিডির পাঠকদের সঙ্গে।

তিনি বলেন, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সেরকম আমরাও প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক হিসেবে প্রতিদিনই চেষ্টা করতাম বাচ্চাদের একটু এগিয়ে নিয়ে যেতে। আমাদের চেষ্টা চলছিল গ্রীষ্মের ছুটির আগেই আমাদের কোর্স শেষ করার জন্য।

আমরা মার্চের প্রথম সপ্তাহেও জানতাম না আমাদের প্ল্যানগুলো এভাবে ভেস্তে যাবে। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে স্কুল বন্ধ হয়ে গেলো। সপ্তাহ খানেক পর মিটিং ডাকা হলো, ইনস্ট্রাকশন দেওয়া হলো কীভাবে ঘরে বসে শিক্ষাদান করা যায়। মিটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হলো অনলাইনে পাঠদান করা। আর এই পুরো ব্যবস্থাকে বলা হয় স্কুলোজি। আমার আজকের বিষয় ‘স্কুলোজি’ নিয়ে। এটি হলো অনলাইন স্কুলিং।

লকডাউনে কীভাবে শিক্ষা দিচ্ছি, তা হচ্ছে-

শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন স্কুলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাকে আমরা বলছি স্কু্লোজি। এ সময়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীকে একটি করে গুগল অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়েছে। এখানে প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীর গ্রেড, গ্রুপ, সেকশন হিসেবে আলাদা আলাদা বাড়ির কাজ দেওয়া আছে। আমি নিচে ছকের সাহায্যে বিষয়টি পরিষ্কার করছি।

এই অ্যাকাউন্টে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই সব শিক্ষার্থীকে প্রায় এক মাসের প্রিন্টেড হোমওয়ার্ক মেইল করা হয়েছে। এই হোমওয়ার্কগুলো শেষ হওয়ার আগেই আবার বাচ্চাদের মেইলে পাঠানো হবে।

আমরা জানি, সব শিক্ষার্থীর সাবজেক্ট এক হবে না। কোর্স-সেকশন অনুযায়ী সাবজেক্ট হয়ে থাকে। তাই সে অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক মেইল ক্যাটাগরি করা হয়েছে। মেইলে আপগ্রেড সেকশনে আপগ্রেড কোর্সগুলো পাওয়া যাবে। কোর্স ক্যাটাগরিতে গ্রেড অনুযায়ী কোর্স পাওয়া যাবে। যেমন ইএসএল-১, ইএসএল-২ ইত্যাদি। শিক্ষার্থীরা গ্রুপে ভাগ করা থাকে, যে যেই গ্রুপের, সে সেই গ্রুপের কাজ অনুসরণ করবে। রিসোর্স থেকে হোমওয়ার্ক সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি পাওয়া যাবে।

ভিডিও কলের ব্যবস্থা

শিক্ষার্থীরা বাসায় কতটুকু হোমওয়ার্ক করছে, কতটুকু বুঝতে পারছে, তারা কেমন আছে এসব খোঁজ-খবর নিতে শিক্ষকরা মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীদের ভিডিও কল দেন। আবার শিক্ষার্থীরাও বাড়ির কাজ না বুঝলে শিক্ষকদের কল দেয়। এভাবেই চলছে পাঠদান।

Check Also

বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ৯ লাখ ১৩ হাজার

নিউজ ডেস্ক : বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৮৩ লাখ ২৪ হাজার …

%d bloggers like this: