Breaking News
Home / জাতীয় / ‘আমি তো মূল ঠিকাদারই নই, টাকা ফেরত দেব কিভাবে’

‘আমি তো মূল ঠিকাদারই নই, টাকা ফেরত দেব কিভাবে’

নিউজ ডেস্ক: মানবজমিনের একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম, “ঠিকাদারির লাভের অঙ্ক ফেরত দিলেন ছাত্রলীগ নেতা”

লিংক: https://mzamin.com/article.php?mzamin=193932

কালের কণ্ঠের শিরোনাম, “সাড়ে চার কোটি টাকা ফেরত দিলেন ছাত্রলীগ নেতা”

লিংক: https://www.kalerkantho.com/online/national/2019/…/12/825653

ঢাকা ট্রিবিউনের বাংলা ভার্সনের শিরোনাম, “কাজ শেষে সরকারকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা ফেরত দিলেন ঠিকাদার”

লিংক: bangla.dhakatribune.com/…/কাজ-শেষে-সরকারকে-সাড়ে-৪-কোটি-টাকা…

এভাবে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে।

কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনটির ইন্ট্রো তুলে দেয়া হলো–

“ছাত্রলীগ নেতাদের নীতি-নৈতিকতা, মানবিকতা, দেশপ্রেম নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এরই মাঝে সরকারি প্রকল্পের প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ফেরত দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চট্টগ্রামের এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। তাঁর নাম মো. আবু তৈয়ব। তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক।”

কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনের আরেকটি প্যারা হচ্ছে–

“গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রকল্পের টাকা বাঁচিয়ে ঠিকাদার আবু তৈয়ব গণপূর্ত বিভাগে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। এমন ঘটনা সচরাচর হয় না।”

ঢাকা ট্রিবিউনের বাংলা ভার্সনের প্রতিবেদন থেকে প্রথম দুটি প্যারা উঠিয়ে দেয়া হল–

“চট্টগ্রাম মহানগরীতে বরাদ্দকৃত অর্থের চেয়ে কম টাকায় একটি সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষ করেছেন মো. আবু তৈয়ব নামের এক ঠিকাদার। এমনকি বেঁচে যাওয়া ৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমাও দিয়েছেন তিনি। আবু তৈয়ব চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদে সেনানিবাসের পাশে ‘বায়েজিদ সবুজ উদ্যান’ নামে একটি পার্ক গড়ে তুলেছে গণপূর্ত বিভাগ। প্রকল্পের বরাদ্দ ছিল ১২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ২০১৭ সালের এপ্রিলে কাজটি পায় আবু তৈয়বের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তিনি ৮ কোটি ৩০ লাখ টাকায় কাজ শেষ করে বাকি ৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা গণপূর্ত বিভাগকে বুঝিয়ে দেন।”

এ বিষয়ে পিডাব্লিউডি (গণপূর্ত বিভাগ) চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান বলেন, “ঠিকাদারের পক্ষ থেকে টাকা ফেরত দেয়ার তো কোনো সুযোগই নেই। বায়েজিদ পার্কে ১২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ছিলো। এটা চূড়ান্ত কিছু নয়। কখনো কোনো ঠিকাদারকে প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয়ের পুরো টাকা দেয়া হয় না। এটার সুযোগই নেই। কারণ প্রথমে যে ব্যয় ধরা হয় তা আনুমানিক। কাজ শেষে খরচ কমবেশি হতে পারে। ফলে আনুমানিক ব্যয় যেটা ধরা হয় সেটি ঠিকাদারকে একসাথে দেয়া হবে কেন?”

শাহজাহান আরো বলেন, “আর তৈয়ব নামে আমাদের কোনো ঠিকাদার নেই। ওই প্রকল্পের ঠিকাদার হচ্ছেন অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা। তৈয়ব নামে কেউ তাদের সাথে ইনফরমালি কাজ করলে আমাদের জানা নেই।”

তিনি জানান, ২০১৭ তে শুরু হয়ে ২০১৮ এর ডিসেম্বরে প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়। তখন মোট প্রকল্প ব্যয় নির্ধারিত হয়, এবং তখনই হিসাব করে দেখা যায় মোট ব্যয় ৮ কোটি টাকার কিছু বেশি হয়েছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান আরো জানান, এ বিষয়টি স্পষ্ট করে বিবৃতি দেবে গণপূর্ত বিভাগ।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব বলেন, ‘ভাই, আমাকে নিয়ে কেন এসব হচ্ছে আমি বুঝতে পারছি না। আমি তো ওই প্রকল্পের ঠিকাদারই না। সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে কিছু কাজ করেছি। আমি কিভাবে পুরো প্রকল্পের টাকা ফেরত দেব?’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রকল্পের যে ব্যয় প্রথমে ধরা হয়েছিল সেটা ছাড় হয়ে (অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে) পিডাব্লিউডি (গণপূর্ত বিভাগ) এর কাছে এসেছিলো। কিন্তু কাজ শেষে পুরো টাকা না লাগায় সেটি ফেরত গেছে। কিন্তু ঠিকাদারের হাত থেকে তো ফেরত যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ এই টাকা তো ঠিকাদারের কাছেই আসে নাই।’

সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত রিপোর্টে তো আপনার বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে আপনি টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন। আপনি কি তাহলে এখন ভিন্ন কথা বলছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে আবু তৈয়ব বলেন, ‘আমি বলিনি আমি ফেরত পাঠিয়েছি। বলেছি পিডাব্লিউডি থেকে টাকাটা ফেরত গেছে। ঠিকাদার বা আমি বেঁচে যাওয়া টাকা ফেরত পাঠিয়েছি এমন কথা আমি বলিনি।’

Check Also

ফুটপাতের পুলিশ বক্স গুঁড়িয়ে দিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত

নিউজ ডেস্ক  :  রাজধানীর উত্তর সিটিতে অবৈধ সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড উচ্ছেদ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) …

%d bloggers like this: