Home / ফিচার / গল্প / অলক আর কাজে যাবে না

অলক আর কাজে যাবে না

মুন্নো চাকমা: অলক আর কাজে যাবে না। ওর বাবা তপন, ওকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়েছে। পুটু, সোহেল, রাধা সবার সাথে কাল থেকে অলকও স্কুলে যাবে
খুশিতে অলক সবাইকে বলে বেড়াচ্ছে “কাল থেকে আমিও ইসকুলে যাবো”।

মা মরে যাওয়ার পর বাবার সাথে সাথেই থাকতো অলক। বাবা ভ্যানে করে শাক সবজী বিক্রি করে এ পাড়া ও পাড়া, এ গোলি ও গোলি। সাথে নিয়ে যায় অলককেও
বাবার সাথে অলক হাঁকে, “শাক লইবেন নি শাক? লাল শাক, পালং শাক, কলমি শাক, লাউ শাক। মরিচ লাগবে? সবজি নিবেন, সবজী? ”

তার ভালো লাগে না বলতে, আবার খারাপও লাগে না। রোদে বৃষ্টিতে ঘুরে বাপ-ছেলে সবজী বিক্রি করে বেড়ায় এতে করে দু’জনের সংসার ভালো ভাবেই চলে। বস্তি মত একটা এলাকায় থাকে ওরা। বেড়া ঘরটার ভাড়া গুনতে হশ মাসে ৮০০টাকা। বাবা ছেলেকে শিক্ষিত করে তুলতে চায়। সবার সামনে বলে, “পোলাডারে বড় মানুষ বানাইবো”

এখন অলক স্কুলে যায়। বাসায় এসে নিজে নিজে পড়া শোনা করে। বিকেলে বাবার সাথে গলি গলি ঘুরে, যদি বাবার একটু সাহায্য হয় এই ভেবে। বাবার সামর্থ্য নেই তাই প্রাইভেট টিউটর রাখতে না পারে। তবু অলক ভালোই করে পরীক্ষায়। স্কুলে যা পড়ায় মন দিয়ে বুঝারর চেষ্টা করে। স্যারের কাজ থেকে অংক কষে নেয়, ইংরেজিটা বুঝে নেয়। বার্ষিক পরীক্ষায় ভালো রেজাল্টও করে ৯ বছর বয়সে ক্লাস টু’তে পড়া অলক। ক্লাসের অন্য ছেলে মেয়েদের চেয়ে একটু বড় বলে কেউ কথা বলতে চাই না ওর সাথে। একা একা থাকে।

এভাবেই কেটে যায় বছর। বছর শেষে রেজাল্ট শীট হাতে তপন বুঝে না বুঝে আনন্দে চোখে জল ফেলায়। সবার সামনে বলে বেড়ায় ” আমার পোলাডা একদিন অনেক বড় হইবো, আমার মত করে সবজী বেচবো না”

স্কুলের বড় ক্লাসে পড়ে এখন অলক। ক্লাস সেভেনে পড়ে সে। খরচটাও একটু বেড়েছে। তপনের একটু খরচ বেড়েছে যদিও ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পেয়েছে অলক কিন্তু বৃত্তির টাকায় খুব একটা লাভ হয়নি। তপনের কষ্ট বাড়লেও ঠিক করেছে অলকে সে পড়াবে।

Check Also

নড়াইলে রাণী রাশমণি এস্টেটের কাচারী বাড়ী

নড়াইল প্রতিনিধি: বাংলার মহিয়সী নারী লোকমাতা রানী রাসমণির কাছারি বাড়ি ছিল, আমাদের বাংলাদেশের নড়াইল এর …

%d bloggers like this: