Home / আর্ন্তজাতিক / অবশেষে রাখাইনে বিদেশি কুটনৈতিকদের নিয়ে গেল মিয়ানমার

অবশেষে রাখাইনে বিদেশি কুটনৈতিকদের নিয়ে গেল মিয়ানমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিদেশি কুটনৈতিক ও জাতিসংঘের প্র্রতিনিধিদের সংঘাতে বিধ্বস্ত রাখাইন প্রদেশের উত্তরাঞ্চলে আজ সোমবার নিয়ে গেছে মিয়ানমার সরকার। গত ২৫ আগস্ট দেশটির সেনাবাহিনীর কথিত জঙ্গি বিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে রাখাইন থেকে প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

সোমবার আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তিনটি দলকে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন এলাক পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়া হয়। রাখাইনের মংডুর জেলা প্রশাসক ইয়ে হুতুত এই তথ্য জানিয়েছেন। তবে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

এর আগে দাতব্য সংস্থা, সাংবাদিক এবং ভিনদেশিদের রাখাইনের গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বাধা দানের কারণে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল।

রাখাইনের স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা জানান, এই সফরে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা রোহিঙ্গা ইসলামি জঙ্গিরা মংডু শহরের যেসব হিন্দু পরিবারের লোকদের ওপর হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল তাদের সঙ্গেও সাক্ষাত করবেন।

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা মো জ জানান, আজ সোমবার সকালে কুটনীতিকদের ওই দলটি রাথেডং নামের শহরের আনাউত পায়িন নামের একটি গ্রামে যান। এই গ্রামের রোহিঙ্গা মুসলিমরা পালিয়ে যায়নি।

ওদিকে নির্যাতনে সহায়-সম্বল ও স্বজন হারিয়ে রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সফররত মিয়ানমারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী কিও তিন্ত সোয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে আজ সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

এর আগে সকাল ১১টার কিছু আগে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব ড. কামাল আবদুল নাসের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আর মিয়ানমারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী ছাড়াও দেশটির উচ্চপর্যায়ের দুই কর্মকর্তা ছিলেন ওই বৈঠকে।

বৈঠক শেষে বের হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে। মিয়ানমার তাদের দেশের নাগরিক অর্থাৎ রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে। এ জন্য দুই দেশ একটি যৌথ চুক্তি ও ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করবে। চুক্তির আলোকে ওয়ার্কিং গ্রুপ যাচাই-বাছাই করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাবে। আমি এ আলোচনায় খুবই আশাবাদী।

তিনি বলেন, বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও দুই দেশের সীমান্তে নিরাপত্তা ইস্যুসহ দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে কিছুদিনের মধ্যে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার সফরে যাবেন। বৈঠকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স নীতির বিষয়টিও মিয়ানমারকে জানানো হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

Check Also

বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ৯ লাখ ১৩ হাজার

নিউজ ডেস্ক : বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৮৩ লাখ ২৪ হাজার …

%d bloggers like this: