Home / জাতীয় / অপরিকল্পিত ত্রাণ বিতরণে বিপদের শঙ্কা

অপরিকল্পিত ত্রাণ বিতরণে বিপদের শঙ্কা

নিউজ ডেস্কঃ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশে লোক চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অনেক কিছু স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও ছিন্নমূল মানুষ।

এসব লোকজনের পাশে দাঁড়াচ্ছে সরকার, প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। খাদ্য সংকটে পড়া ব্যক্তিদের দেওয়া হচ্ছে ত্রাণ। তবে অপরিকল্পিতভাবে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের এই প্রক্রিয়ায় বিপদের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যখন জনসমাগম এড়ানোই প্রধান লক্ষ্য, তখন এই ত্রাণ বিতরণকে কেন্দ্র করে হাজারো মানুষের জমায়েত নিজের পায়ে কুড়াল মারার মতো বলে মনে করা হচ্ছে।

গত ২৬ মার্চ ‘ঘরে থাকুন’ স্লোগান নিয়ে যে ১০ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা ও সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তার প্রধান উদ্দেশ্য গণজমায়েত এড়ানো। পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়িয়েছে। যেহেতু করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার হয়নি, তাই ঘরে থাকাকেই প্রধান প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে মানা হচ্ছে বিশ্বব্যাপী।

করোনা প্রতিরোধে সমাজের খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানের পরই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মানুষ এগিয়ে এসেছেন। দিনমজুর ও ছিন্নমূল অসহায় মানুষদের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এতে কিছুটা হলেও উপকৃত হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষগুলো।

গত কয়েকদিনে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় এসব খাদ্যসামগ্রী বিরতণ হয়েছে। কিন্তু ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে গণজমায়েতের বিষয়টি মাথায় রাখছেন না তারা। মঙ্গলবার বিভিন্ন স্থানে টিসিবির (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) গাড়ির সামনেও ঘা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে পণ্য নিতে দেখা গেছে।

গত কয়েকদিনে ঢাকা উত্তর সিটি করেপারেশনের পক্ষ থেকে পরিবার প্রতি ৫ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি পেঁয়াজ, ২ কেজি আলু ও ১ লিটার করে তেল বিতরণ করা হয়। সংকট থাকা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, ৫৪টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১৮টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডেও একই পরিমাণে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হবে। কিন্তু প্রতিদিনই ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে ব্যাপক গণজমায়েত হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া ছিন্নমূল ৫০ হাজার মানুষের মাঝে খাদ্যবিতরণ কর্মসূচি শুরু করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। গত শনিবার মাসব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। তবে এখানেও একই অবস্থা—গণজমায়েত ঘটিয়ে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থার ত্রাণ বিতরণেও একই চিত্র দেখা গেছে।

ঢাকার দুই সিটি করেপারেশসহ বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান যারা গত কয়েকদিনে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে, তার প্রায় সবক্ষেত্রে ব্যাপক লোকসমাগম হয়েছে। ত্রাণ নিতে কাড়াকাড়ির কারণে এক পর্যায়ে দক্ষিণ সিটি করপেোরেশন এ কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। তারা ওয়ার্ড ভিত্তিতে নিম্ন আয়ের মানুষের তালিকা করে ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এ সিদ্ধান্ত নিলেও অন্যরা গণজমায়েত ঘটিয়েই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল।

এভাবে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কতটা নিরাপদ, জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন রাইজিংবিডিকে বলেন, এভাবে আসলে ত্রাণ বিতরণ করা ঠিক নয়, যেখানে গণজমায়েত হয়। তবে আমরা চেষ্টা করেছি, দূরত্ব বজায় রেখে এই কার্যক্রম পরিচালনা করতে। কিন্তু বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ার পরই আমরা তা বন্ধ করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, ‘এখন আমরা মাসব্যাপী খাদ্যসামগ্রী বিতরণের জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি করছি। ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪৯টির তালিকা তৈরি হয়েছে। আমরা ছিন্নমূল কর্মহীন মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দিতে চাই।’

হলি ফ্যামিলি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম রাইজিংবিডিকে বলেন, এভাবে জমায়েত ঘটিয়ে খাদ্যসামগ্রী বিতরণে হয়তো নিম্ন আয়ের মানুষের উপকার হবে, তবে সেই সাথে চরম বিপদের আশঙ্কাও তৈরি হবে। কারণ, এখন এমন এক মুহূর্ত যেখানে সামাজিক দূরত্ব তৈরি করাই করোনা প্রতিরোধের প্রধান এবং একমাত্র উপায়। সুতরাং পেটের ক্ষুধা নিবারণ করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনা মানে জীবন বিপন্ন হওয়া।

তিনি বলেন, ‘যারা কর্মহীন অসহায় মানুষকে খাবার বিরতণ করছেন, তাদের উচিত খোঁজ-খবর নিয়ে তালিকা করে ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া। এক্ষত্রে স্থানীয় কাউন্সিলর বা জনপ্রতিনিধি যারা আছেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। কারণ, এলাকায় কারা সংকটে আছেন তারা ভালো জানবেন। সিটি করপোরেশনেরও এভাবে ত্রাণ বিতরণ করা উচিত।’

 

Check Also

রাতে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) …

%d bloggers like this: