Home / দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া / ৭৮ ডলারে শিলিগুড়ি-দার্জিলিং-কালিম্পং-লাভা-রিশপ ভ্রমন (ভিডিও সহ)

৭৮ ডলারে শিলিগুড়ি-দার্জিলিং-কালিম্পং-লাভা-রিশপ ভ্রমন (ভিডিও সহ)

রেজওয়ানুল কবীর: কিছু মানুষের ইচ্ছের ঘুড়িগুলো উড়ে বেড়ায়, মেঘ পাড়ি দিয়ে কিছু সময় আকাশও ছুঁতে চায়। মনের অন্তহীন গভীরতা থেকে ছুটি নিয়ে উড়ে চলে যেতে চায়।  তবে কথায় আছে, ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়। আপনার এই অভিলাষী মনের সব ইচ্ছাই পূরণ করবে পাহাড়ের রাজ্য দার্জিলিং। দার্জিলিংয়ের প্রতিটি বাঁকে শুধু তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে হবে আর তাকিয়ে শুধু ডুবে যেতে মন চাইবে। তো এবার শুরু করি আমার ভ্রমন কাহিনী।

ডে ওয়ানঃ আমার বাসার কাছেই বুড়িমারী/ চ্যাংরাবান্ধা পোর্ট হওয়ায় আমি এটি ব্যাবহার করেছি। আপনারা চাইলে বাংলাবান্ধা পোর্ট ও ব্যাবহার করতে পারেন। ট্রাভেল ট্যাক্স ৫০০ টাকা দিয়ে আমাদের খরচের হিসেব শুরু। বর্ডারে প্রথমে পুলিশকে ৫০ টাকা আর শেষে কাস্টমস এ ৫০ টাকা দিয়ে ইন্ডিয়ায় প্রবেশ করলাম। ইন্ডিয়া গিয়ে দালালের হাতে ২০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে চুপ চাপ থাকুন। ওরাই সব কাজ করিয়ে দিবে। নিজে নিজে করতে গেলে অহেতুক ঝামেলায় পরবেন। আমরা এই ঝামেলায় পরেছিলাম। তাই সবাইকে দালাল ধরার পরামর্শ দিলাম। . আমরা নিজেরাই করতে গেছিলাম। আমরা জানতাম না যে এই বর্ডারে ঢুকেই ইন্ডিয়ান কাস্টম এর চেকিং শেষে একটা কিলিয়ারেন্স সীল নিতে হয়। সব সময় বেনাপোল বা হরিদাশপুর পোর্ট ব্যাবহার করেছি। ওখানে এই নাটক নেই। যেহেতু দালাল ধরি নাই তাই আমাদের ওই সীল না দিয়েই পাসপোর্ট দিয়ে দেয়। কিন্তু তখন জানতাম না যে আমাদের ধরার রাস্তা তৈরী হচ্ছে। ফেরার সময় আবার দালাল ছাড়া কাজ করতে গেলে আমাদের ওই কাস্টমস সীল নেই বলে আটকিয়ে দেয়। পরে ১০০ টাকা পার পারসন দিয়ে ঝামেলা মিটাইতে হইছে। তাই অহেতুক ঝামেলায় না গিয়ে ২০০ রুপি দিয়ে কাজ শেষ করে ফেলুন। ইন্ডিয়ার এন্ট্রি সীল নিয়ে বর্ডারেই ডলার বা টাকা ভাঙ্গিয়ে ফেলুন। শিলিগুড়িতে দাম কম পাবেন। এখানে সব কাজ শেষ করে অটোতে করে সরাসরি চলে যাবেন মাথা ভাঙ্গা চেক পোস্টের আগে তিন রাস্তার মোড়ে। ভাড়া নিবে মাত্র ৩০ রুপি। কিছুক্ষন দাঁড়ালেই শিলিগুড়ি গামী NBRTC বা বেসরকারী গাড়ি পেয়ে যাবেন। সরকারী গাড়িতে ৬৯ রুপি আর বেসরকারীতে ৭০ রুপি ভাড়া নিয়ে শিলিগুড়িতে চলে আসতে পারবেন। সময় লাগবে ২ ঘণ্টার মত। এখন আপনাদের কিছু ট্রিক্স বলি। রাতের পাহাড়ীয়া রাস্তার ভ্রমনের অভিজ্ঞতা যাদের আছে তারাই জানেন এটা কতটা সুন্দর। তবে নতুন যারা যাবেন তারা দিনের দৃশ্যটা মিস করবেন।

শিলিগুড়ির মেইন শহর বলতে ভেনাস মোড় কেই বুঝায়। এখানে বড় বড় শপিং মল সহ সব কিছুই আছে। তাই কেনা কাটার জন্য এটা বেস্ট প্লেস। দার্জিলিং পাহাড়ের শহর। এখানে খুব দ্রুত রাত নামে। তাই শিলিগুড়ি গিয়ে সিম কিনে OYO, Booking.com , Make my Trip থেকে হোটেল বুক করে ফেলুন। আমাদের আনলিমিটেড ইন্টারনেট ও ইন্ডিয়ায় কল ফ্রী একটা এয়ারটেল সিম এর দাম নিয়েছিল ৪০০ রুপি । আমরা ছিলাম চারজন সে হিসেবে জন প্রতি ১০০ রুপি খরচ। দার্জিলিং গামী শেয়ারড ট্যাক্সি গুলো জংশন বাস স্টান্ড এর কাছ থেকেই ছাড়ে। এখান থেকে ১৫০ রুপি পার পারসনে দার্জিলিং চলে যেতে পারবেন। হোটেল বুকিং শেষ হলে কিছু খেয়ে নিন। ১৫০ রুপিতে পেট ভড়ে ভাত, মুরগী পাবেন। অবশ্যই সন্ধ্যা ৫ টার মধ্যে ট্যাক্সিতে করে দার্জিলিং এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন। আমরা এর আগে যতক্ষন সময় পেয়েছিলাম শিলিগুড়ি শহর ঘুরে বেড়িয়েছি। ৫ টার মধ্যে যাত্রা শুরু করলে ৮.৩০ এর মধ্যে রাতের পাহাড়ের অপূর্ব দৃশ্য দেখতে দেখতে দার্জেলিং পৌঁছে যাবেন। রাস্তায় খাবারের দোকান পাবেন সেখান থেকে ১০০ রুপির মধ্যে কিছু খেয়ে নিবেন। কারন আপনি যখন দার্জিলিং পৌছবেন তখন কোন কিছু নাও পেতে পারেন। দার্জিলিং পৌঁছে ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন। এনার্জি সংরক্ষন করুন। কারন আপনার জন্য এডভেঞ্চার অপেক্ষা করছে । আমরা চার জনের একটা রুম ১৬০০ রুপি দিয়ে পেয়েছিলাম। সে হিসেবে পার পারসন ৪০০ রুপি। ডে ওয়ান খরচ ৫০০+১০০+২০০+৩০+৭০+১৫০+১০০+১৫০+১০০+ ৪০০ = ২২০০ রুপি

ডে টুঃ খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পরুন। এবার দুপুর ১০ টা পর্যন্ত দারজেলিং ঘুরে দেখুন। ছোট শহর দার্জিলিং এ বাস করে ১ লাখ ৩৩ হাজার মানুষ। এত গিঞ্জি পরিবেশ আমার ভালো লাগে নি। আপনাদের কেমন লাগবে জানি না। যদি ভালো লাগে তবে এখানে ১ দিন থাকতে পারেন। সে হিসেবে খরচ টা অ্যাড করে নিবেন।

দার্জিলিং গিয়ে যে বাংলায় কথা বলে সব কাজ করাবেন তা কিন্তু নয়। এটা নর্থ বেঙ্গলের মধ্যে অবস্থিত হলেও এখানকার ম্যাক্সিমাম মানুষ নেপালী কিংবা ভুটানী ইন্ডিয়ান। তাদের নিজেদের ভাষা আছে আর তা দুর্বোধ্য। হিন্দি কিংবা ইংরেজিতে কাজ চালান। দার্জিলিং শহরের মাঝখানে রয়েছে জামা মসজিদ। এর সাথেই রয়েছে মুসলিম খাবারের হোটেল। এখানে ৬০ রুপির গরু ভুনা, আর পরাটা সব মিলিয়ে ৮০ রুপিতে পেট ভরাতে পারবেন। সকাল সকাল উঠলে ৩ ঘণ্টার মধ্যে ফার্মগেট সরি দার্জিলিং ঘুরে দেখতে পারবেন। তবে আপনি যদি শীতকালে দার্জিলিং যান তবে এখানে একদিন থেকে অবশ্যই সান্দাকপু থেকে ঘুরে আসবেন। এবার কাউকে জিজ্ঞেস করলেই কালিম্পং গামী ট্যাক্সি স্ট্যান্ড টা দেখিয়ে দিবে। এখানে ১৪০ রুপিতে শেয়ারড ট্যাক্সিতে করে ২ঃ৩০ বা ৩ ঘণ্টার জন্য এক চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে দেখা অপূর্ব সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য রেডি হউন । পথের মধ্যে পাহাড়ীয়া তিস্তা নদী, ঘন বন, উচু উচু পাহাড়ের সারি আর কত কি না আছে।

কালিম্পং শহর থেকে লাভার উদ্দেশে ১২.০০, ১.০০, ২.০০,৩.৩০ এ শেয়ারড জিপ ছাড়ে। তবে আমি সাজেশ করব আপনি একটা রিজার্ভ ট্যাক্সি নিয়ে নিন। কালিম্পং থেকে লাভা মাত্র ২ ঘণ্টার পাহাড়িয়া ভ্রমন। তাই ৪ টায় কালিম্পং থেকে লাভার উদেশ্যে যাত্রা শুরু করলে ৬ টার মধ্যেই লাভায় পৌঁছে যাবেন। তাই সেই হিসেব করে হাতে যে সময় টুকু পাবেন কালিম্পং শহর ঘুরে দেখুন। অনেকটা দার্জেলিং শহরের মত তবে এখানে গিঞ্জি ভাবটা কিছুটা কম। এখানেও প্রায় সবাই নেপালী-ভুটানী ইন্ডিয়ান। নিজেকে মনে হতে পারে চীনে চলে এসেছেন। কালিম্পং এ ১০০ রুপির মধ্যেই পেট ভরে খেতে পারবেন। আমরা ১১০০ রুপিতে কালিম্পং টু লাভা চলে এসেছিলাম। চার জনে সে হিসেবে ভাড়া পড়েছে মাত্র ২৭৫ রুপি।

কালিম্পং থেকে লাভার রাস্তাটাও অনেক সুন্দর। মনে রাখবেন আপনি কিন্তু ধীরে ধীরে শান্ত একটা নিরিবিলি গ্রামে প্রবেশ করছেন। যেই শান্ত নিরবতা আপনি দার্জেলিং এ পান নি সেটা এখানে পাবেন। অফ সিজেন হওয়ায় লাভাতে ৮০০ টাকা পার নাইটে সুন্দর ২ টা রুম নিলাম। এক রুমে দুজন হিসেবে আমাদের ভাড়া পরেছে পার ডে ৪০০ রুপি করে। আর রুমের জানালা দিয়ে সামনের পাহাড়ের অবাক করা দৃশ্য আমাদের জন্য ছিল বোনাস। মেঘের রাজ্য লাভায় ১২০ রুপিতে ভাত আর মুরগী খেয়ে সেদিনের মত ঘুম দিলাম। ডে টু খরচঃ ৮০+১৪০+১০০+২৭৫+৮০০+১২০ = ১৫১৫ রুপি

ডে থ্রিঃ সকাল সকাল ঘুম ভাঙল জানালার অপাশে পাহাড়ের সবুজ ভয়ঙ্কর রুপ দেখে। ৬০ রুপির মধ্যে নাশতা সেরে রউনা দিলাম আমাদের কাঙ্ক্ষিত সেই লাভা-রিশপ-লাভা প্রায় ১৭ কিঃ মিঃ পাহাড়ি ট্রাকিং এর উদ্দেশ্য। এই ব্যাপারে এখানে আর কিছু বলছি না। এই পথ ভ্রমনে আপনি শুধু মেঘের রাজ্যেই হারাবেন না, কাঞ্চঙ্ঘা দেখা সহ , টিফনি দারার রুপ সহ অনেক কিছুই পাবেন। আপনি ঠিক যে জিনিস গুলো দার্জিলিং তে মিস করেছেন সেই জিনিস গুলো এখানে পাবেন তবে কিছুটা বেশী আর শান্ত নীরবতার মাঝে। এই দিন আমাদের পার পারসন খাওয়ার খরচ ছিল ৩০০ রুপি করে। ডে থ্রি খরচঃ ৬০+৪০০+৩০০ = ৭৬০ রুপি

ডে ফোরঃ এবার ফেরার পালা। আর তেমন কিছু নেই দেখার। লাভা থেকে সরাসরি শিলিগুড়ি আসতে পারেন। তবে আবার কালিম্পং ঘুরে আসবেন না। লাভা থেকে সরাসরি শিলিগুড়ি আসার বাস সকাল ৭ টায় ও আর ১০ঃ৩০ টায় রয়েছে এবং ভাড়া পরবে মাত্র ১৪০ রুপি। ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার এই পথের অভিজ্ঞতা হতে পারে আপনার লাইফের অন্যতম একটি বাস ভ্রমনের অভিজ্ঞত। এই পথে আপনার পুরোটাই সঙ্গী হয়ে থাকবে বড় বড় পাহাড়, ঝরনা, মহানন্দা ওয়াইল্ড লাইফ, বেঙ্গল সাফারী পার্ক আর তিস্তা নদী। সুবিশাল চা বাগানের মধ্যে দিয়ে যখন বাসটা ছুটে চলে তখন চোখ জুড়িয়ে যায়। দুপুর ১২ টার মধ্যে শিলিগুড়িতে পৌছে কেনাকাটা থাকলে সেরে নিতে পারেন। আমাদের কিছুটা তারাহুড়া থাকায় আমরা এখানে আর অপেক্ষা করি নাই। ১৫০ রুপি দিয়ে ভাত মুরগী খেয়ে আবার ৬৯ রুপি দিয়ে মাথা ভাঙ্গা হয়ে ৩০ রুপি দিয়ে বর্ডার। এখানে আবার আমরা ঝামেলা করছি। ঘুস নিয়ে আমাদের সাথে কথা কাটাকাটি পর্যন্ত হয়ে গেছে। আপনারা এই ঝামেলাইয় না গিয়ে ম্যাক্স ২০০ টাকা খরচ করে এক্সিট সিল নিয়ে বাংলাদেশ । এখানে ১৫০ এর মত টাকা খরচ করে এন্ট্রি সীল নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করুন। ডে ফোর খরচঃ ১৪০+১৫০+১৫০+৬৯+৩০+১৫০+২০০ = ৮৮৯

ট্যুরের সর্বমোট খরচঃ ৫৩৬৪ রুপি মাত্র হিসেবটা টাকা ও রুপি মিক্স করেই আছে। ডলার রেট ৬৯ করে পেয়েছিলাম সে হিসেবে মাত্র ৭৮ ডলারে কাজ শেষ বর্ডারে ঘুষ না দিলে ৬৫০ টাকা বেচে যেত। ফলে এই ট্যুর ৪৭১৪ রুপিতেই দেওয়া সম্ভব ছিল।

কিছু কথাঃ যারা কিছুটা রিল্যাক্সে এই ট্যুর দিতে চান তারা দার্জিলিং এ একদিন কাটাতে পারেন। তবে কালিম্পং এ থাকার কোন কারন নেই। লাভা ও রিশপে সময় দিন। সবার ট্যুর প্লান তাদের ভালোলাগার উপর বেজ করে বানানো থাকে। আমাদের কোলাহল ভালো লাগে না তাই পুরো টুরে কালিম্পং, লাভা আর রিশপের রুপকে বেশী মুল্য দেওয়া হয়েছে। আপনারা নিজেদের মত করে এই প্লান আপডেট করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে খরচ কিছুটা বাড়বে। দার্জিলিং এ রক গার্ডেন দেখার দুঃখ ভুলে যাবেন লাভা টু রিশপের ট্রাকিং এর সময় দু পাশের পাথর দেখে। রিশপের কাঞ্চঙ্ঘা ভিউ পয়েন্ট থেকে দার্জেলিং এর চেয়েও ভালো কাঞ্চঙ্ঘা দেখা যায়। লাভায় গিয়ে বাংলাদেশী হিসেবে দাম পেয়েছি। তাই এখানে গিয়ে এমন কিছু করবেন না যাতে বাংলাদেশের নাম খারাপ হয়। এখানকার মানুষেরা বাংলা বুঝে না বা খুব কম বুঝে । তাই হিন্দি জানলে আপনার সব ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। নিচের ভিডিওতে আমাদের যাত্রা পথের অপূর্ব কিছু ভিঊ পাবেন। ভালো থাকবেন সবাই।

লেখক: রেজওয়ানুল কবীর।

ভিডিও: 

শিলিগুড়ি- দার্জিলিং- কালিম্পং- লাভা- রিশপ ভ্রমন প্লান (৭৮ ডলার).ডে ওয়ানঃ======আমার বাসার কাছেই বুড়িমারী/ চ্যাংরাবান্ধা পোর্ট হওয়ায় আমি এটি ব্যাবহার করেছি। আপনারা চাইলে বাংলাবান্ধা পোর্ট ও ব্যাবহার করতে পারেন। ট্রাভেল ট্যাক্স ৫০০ টাকা দিয়ে আমাদের খরচের হিসেব শুরু। বর্ডারে প্রথমে পুলিশকে ৫০ টাকা আর শেষে কাস্টমস এ ৫০ টাকা দিয়ে ইন্ডিয়ায় প্রবেশ করলাম। ইন্ডিয়া গিয়ে দালালের হাতে ২০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে চুপ চাপ থাকুন। ওরাই সব কাজ করিয়ে দিবে। নিজে নিজে করতে গেলে অহেতুক ঝামেলায় পরবেন। আমরা এই ঝামেলায় পরেছিলাম। তাই সবাইকে দালাল ধরার পরামর্শ দিলাম। .আমরা নিজেরাই করতে গেছিলাম। আমরা জানতাম না যে এই বর্ডারে ঢুকেই ইন্ডিয়ান কাস্টম এর চেকিং শেষে একটা কিলিয়ারেন্স সীল নিতে হয়। সব সময় বেনাপোল বা হরিদাশপুর পোর্ট ব্যাবহার করেছি। ওখানে এই নাটক নেই। যেহেতু দালাল ধরি নাই তাই আমাদের ওই সীল না দিয়েই পাসপোর্ট দিয়ে দেয়। কিন্তু তখন জানতাম না যে আমাদের ধরার রাস্তা তৈরী হচ্ছে। ফেরার সময় আবার দালাল ছাড়া কাজ করতে গেলে আমাদের ওই কাস্টমস সীল নেই বলে আটকিয়ে দেয়। পরে ১০০ টাকা পার পারসন দিয়ে ঝামেলা মিটাইতে হইছে। তাই অহেতুক ঝামেলায় না গিয়ে ২০০ রুপি দিয়ে কাজ শেষ করে ফেলুন।.ইন্ডিয়ার এন্ট্রি সীল নিয়ে বর্ডারেই ডলার বা টাকা ভাঙ্গিয়ে ফেলুন। শিলিগুড়িতে দাম কম পাবেন। এখানে সব কাজ শেষ করে অটোতে করে সরাসরি চলে যাবেন মাথা ভাঙ্গা চেক পোস্টের আগে তিন রাস্তার মোড়ে। ভাড়া নিবে মাত্র ৩০ রুপি। কিছুক্ষন দাঁড়ালেই শিলিগুড়ি গামী NBRTC বা বেসরকারী গাড়ি পেয়ে যাবেন। সরকারী গাড়িতে ৬৯ রুপি আর বেসরকারীতে ৭০ রুপি ভাড়া নিয়ে শিলিগুড়িতে চলে আসতে পারবেন। সময় লাগবে ২ ঘণ্টার মত।.এখন আপনাদের কিছু ট্রিক্স বলি। রাতের পাহাড়ীয়া রাস্তার ভ্রমনের অভিজ্ঞতা যাদের আছে তারাই জানেন এটা কতটা সুন্দর। তবে নতুন যারা যাবেন তারা দিনের দৃশ্যটা মিস করবেন। চিন্তা করবেন না পুরো পোস্ট পড়ুন। সব পাবেন এখানে। শিলিগুড়ির মেইন শহর বলতে ভেনাস মোড় কেই বুঝায়। এখানে বড় বড় শপিং মল সহ সব কিছুই আছে। তাই কেনা কাটার জন্য এটা বেস্ট প্লেস।.দার্জিলিং পাহাড়ের শহর। এখানে খুব দ্রুত রাত নামে। তাই শিলিগুড়ি গিয়ে সিম কিনে OYO, Booking.com , Make my Trip থেকে হোটেল বুক করে ফেলুন। আমাদের আনলিমিটেড ইন্টারনেট ও ইন্ডিয়ায় কল ফ্রী একটা এয়ারটেল সিম এর দাম নিয়েছিল ৪০০ রুপি । আমরা ছিলাম চারজন সে হিসেবে জন প্রতি ১০০ রুপি খরচ। দার্জিলিং গামী শেয়ারড ট্যাক্সি গুলো জংশন বাস স্টান্ড এর কাছ থেকেই ছাড়ে। এখান থেকে ১৫০ রুপি পার পারসনে দার্জিলিং চলে যেতে পারবেন। হোটেল বুকিং শেষ হলে কিছু খেয়ে নিন। ১৫০ রুপিতে পেট ভড়ে ভাত, মুরগী পাবেন। অবশ্যই সন্ধ্যা ৫ টার মধ্যে ট্যাক্সিতে করে দার্জিলিং এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন। আমরা এর আগে যতক্ষন সময় পেয়েছিলাম শিলিগুড়ি শহর ঘুরে বেড়িয়েছি। ৫ টার মধ্যে যাত্রা শুরু করলে ৮.৩০ এর মধ্যে রাতের পাহাড়ের অপূর্ব দৃশ্য দেখতে দেখতে দারজেলিং পৌঁছে যাবেন। রাস্তায় খাবারের দোকান পাবেন সেখান থেকে ১০০ রুপির মধ্যে কিছু খেয়ে নিবেন। কারন আপনি যখন দার্জিলিং পৌছবেন তখন কোন কিছু নাও পেতে পারেন। দার্জিলিং পৌঁছে ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন। এনার্জি সংরক্ষন করুন। কারন আপনার জন্য এডভেঞ্চার অপেক্ষা করছে । আমরা চার জনের একটা রুম ১৬০০ রুপি দিয়ে পেয়েছিলাম। সে হিসেবে পার পারসন ৪০০ রুপি.ডে ওয়ান খরচ ৫০০+১০০+২০০+৩০+৭০+১৫০+১০০+১৫০+১০০+ ৪০০ = ২২০০ রুপি.ডে টুঃ======খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পরুন। এবার দুপুর ১০ টা পর্যন্ত দারজেলিং ঘুরে দেখুন। ছোট শহর দার্জিলিং এ বাস করে ১ লাখ ৩৩ হাজার মানুষ। এত গিঞ্জি পরিবেশ আমার ভালো লাগে নি। আপনাদের কেমন লাগবে জানি না। যদি ভালো লাগে তবে এখানে ১ দিন থাকতে পারেন। সে হিসেবে খরচ টা অ্যাড করে নিবেন। .দার্জিলিং গিয়ে যে বাংলায় কথা বলে সব কাজ করাবেন তা কিন্তু নয়। এটা নর্থ বেঙ্গলের মধ্যে অবস্থিত হলেও এখানকার ম্যাক্সিমাম মানুষ নেপালী কিংবা ভুটানী ইন্ডিয়ান। তাদের নিজেদের ভাষা আছে আর তা দুর্বোধ্য। হিন্দি কিংবা ইংরেজিতে কাজ চালান। দার্জিলিং শহরের মাঝখানে রয়েছে জামা মসজিদ। এর সাথেই রয়েছে মুসলিম খাবারের হোটেল। এখানে ৬০ রুপির গরু ভুনা, আর পরাটা সব মিলিয়ে ৮০ রুপিতে পেট ভরাতে পারবেন। সকাল সকাল উঠলে ৩ ঘণ্টার মধ্যে ফার্মগেট সরি দার্জিলিং ঘুরে দেখতে পারবেন। তবে আপনি যদি শীতকালে দার্জিলিং যান তবে এখানে একদিন থেকে অবশ্যই সান্দাকপু থেকে ঘুরে আসবেন। এবার কাউকে জিজ্ঞেস করলেই কালিম্পং গামী ট্যাক্সি স্ট্যান্ড টা দেখিয়ে দিবে। এখানে ১৪০ রুপিতে শেয়ারড ট্যাক্সিতে করে ২ঃ৩০ বা ৩ ঘণ্টার জন্য এক চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে দেখা অপূর্ব সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য রেডি হউন । পথের মধ্যে পাহাড়ীয়া তিস্তা নদী, ঘন বন, উচু উচু পাহাড়ের সারি আর কত কি না আছে।.কালিম্পং শহর থেকে লাভার উদ্দেশে ১২.০০, ১.০০, ২.০০,৩.৩০ এ শেয়ারড জিপ ছাড়ে। তবে আমি সাজেশ করব আপনি একটা রিজার্ভ ট্যাক্সি নিয়ে নিন। কালিম্পং থেকে লাভা মাত্র ২ ঘণ্টার পাহাড়িয়া ভ্রমন। তাই ৪ টায় কালিম্পং থেকে লাভার উদেশ্যে যাত্রা শুরু করলে ৬ টার মধ্যেই লাভায় পৌঁছে যাবেন। তাই সেই হিসেব করে হাতে যে সময় টুকু পাবেন কালিম্পং শহর ঘুরে দেখুন। অনেকটা দারজেলিং শহরের মত তবে এখানে গিঞ্জি ভাবটা কিছুটা কম। এখানেও প্রায় সবাই নেপালী-ভুটানী ইন্ডিয়ান। নিজেকে মনে হতে পারে চীনে চলে এসেছেন 😛 । কালিম্পং এ ১০০ রুপির মধ্যেই পেট ভরে খেতে পারবেন। আমরা ১১০০ রুপিতে কালিম্পং টু লাভা চলে এসেছিলাম। চার জনে সে হিসেবে ভাড়া পড়েছে মাত্র ২৭৫ রুপি। .কালিম্পং থেকে লাভার রাস্তাটাও অনেক সুন্দর। মনে রাখবেন আপনি কিন্তু ধীরে ধীরে শান্ত একটা নিরিবিলি গ্রামে প্রবেশ করছেন। যেই শান্ত নিরবতা আপনি দারজেলিং এ পান নি সেটা এখানে পাবেন। অফ সিজেন হওয়ায় লাভাতে ৮০০ টাকা পার নাইটে সুন্দর ২ টা রুম নিলাম। এক রুমে দুজন হিসেবে আমাদের ভাড়া পরেছে পার ডে ৪০০ রুপি করে। আর রুমের জানালা দিয়ে সামনের পাহাড়ের অবাক করা দৃশ্য আমাদের জন্য ছিল বোনাস। মেঘের রাজ্য লাভায় ১২০ রুপিতে ভাত আর মুরগী খেয়ে সেদিনের মত ঘুম দিলাম।.ডে টু খরচঃ ৮০+১৪০+১০০+২৭৫+৮০০+১২০ = ১৫১৫ রুপি.ডে থ্রিঃ=====সকাল সকাল ঘুম ভাঙল জানালার অপাশে পাহাড়ের সবুজ ভয়ঙ্কর রুপ দেখে। ৬০ রুপির মধ্যে নাশতা সেরে রউনা দিলাম আমাদের কাঙ্ক্ষিত সেই লাভা-রিশপ-লাভা প্রায় ১৭ কিঃ মিঃ পাহাড়ি ট্রাকিং এর উদ্দেশ্য। এই ব্যাপারে এখানে আর কিছু বলছি না। গ্রুপে আমার এই পোস্ট থেকে পড়ে নিতে পারেন ( https://bit.ly/2MdkMbs ) । এই পথ ভ্রমনে আপনি শুধু মেঘের রাজ্যেই হারাবেন না, কাঞ্চঙ্ঘা দেখা সহ , টিফনি দারার রুপ সহ অনেক কিছুই পাবেন। আপনি ঠিক যে জিনিস গুলো দার্জিলিং তে মিস করেছেন সেই জিনিস গুলো এখানে পাবেন তবে কিছুটা বেশী আর শান্ত নীরবতার মাঝে। এই দিন আমাদের পার পারসন খাওয়ার খরচ ছিল ৩০০ রুপি করে।.ডে থ্রি খরচঃ ৬০+৪০০+৩০০ = ৭৬০ রুপি.ডে ফোরঃ=======এবার ফেরার পালা । আর তেমন কিছু নেই দেখার। লাভা থেকে সরাসরি শিলিগুড়ি আসতে পারেন। তবে আবার কালিম্পং ঘুরে আসবেন না। লাভা থেকে সরাসরি শিলিগুড়ি আসার বাস সকাল ৭ টায় ও আর ১০ঃ৩০ টায় রয়েছে এবং ভাড়া পরবে মাত্র ১৪০ রুপি। ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার এই পথের অভিজ্ঞতা হতে পারে আপনার লাইফের অন্যতম একটি বাস ভ্রমনের অভিজ্ঞত। এই পথে আপনার পুরোটাই সঙ্গী হয়ে থাকবে বড় বড় পাহাড়, ঝরনা, মহানন্দা ওয়াইল্ড লাইফ, বেঙ্গল সাফারী পার্ক আর তিস্তা নদী। সুবিশাল চা বাগানের মধ্যে দিয়ে যখন বাসটা ছুটে চলে তখন চোখ জুড়িয়ে যায়। দুপুর ১২ টার মধ্যে শিলিগুড়িতে পৌছে কেনাকাটা থাকলে সেরে নিতে পারেন। আমাদের কিছুটা তারাহুড়া থাকায় আমরা এখানে আর অপেক্ষা করি নাই। ১৫০ রুপি দিয়ে ভাত মুরগী খেয়ে আবার ৬৯ রুপি দিয়ে মাথা ভাঙ্গা হয়ে ৩০ রুপি দিয়ে বর্ডার। এখানে আবার আমরা ঝামেলা করছি। ঘুস নিয়ে আমাদের সাথে কথা কাটাকাটি পর্যন্ত হয়ে গেছে। আপনারা এই ঝামেলাইয় না গিয়ে ম্যাক্স ২০০ টাকা খরচ করে এক্সিট সিল নিয়ে বাংলাদেশ । এখানে ১৫০ এর মত টাকা খরচ করে এন্ট্রি সীল নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করুন।.ডে ফোর খরচঃ ১৪০+১৫০+১৫০+৬৯+৩০+১৫০+২০০ = ৮৮৯..টুরে সর্বমোট খরচঃ ৫৩৬৪ রুপি মাত্রহিসেবটা টাকা ও রুপি মিক্স করেই আছে। ডলার রেট ৬৯ করে পেয়েছিলাম সে হিসেবে মাত্র ৭৮ ডলারে কাজ শেষ 🙂 বর্ডারে ঘুষ না দিলে ৬৫০ টাকা বেচে যেত। ফলে এই ট্যুর ৪৭১৪ রুপিতেই দেওয়া সম্ভব ছিল।..কিছু কথাঃ========যারা কিছুটা রিল্যাক্সে এই ট্যুর দিতে চান তারা দার্জিলিং এ একদিন কাটাতে পারেন। তবে কালিম্পং এ থাকার কোন কারন নেই। লাভা ও রিশপে সময় দিন। সবার ট্যুর প্লান তাদের ভালোলাগার উপর বেজ করে বানানো থাকে। আমাদের কোলাহল ভালো লাগে না তাই পুরো টুরে কালিম্পং, লাভা আর রিশপের রুপকে বেশী মুল্য দেওয়া হয়েছে। আপনারা নিজেদের মত করে এই প্লান আপডেট করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে খরচ কিছুটা বাড়বে। দার্জিলিং এ রক গার্ডেন দেখার দুঃখ ভুলে যাবেন লাভা টু রিশপের ট্রাকিং এর সময় দু পাশের পাথর দেখে। রিশপের কাঞ্চঙ্ঘা ভিউ পয়েন্ট থেকে দারজেলিং এর চেয়েও ভালো কাঞ্চঙ্ঘা দেখা যায়। লাভায় গিয়ে বাংলাদেশী হিসেবে দাম পেয়েছি। তাই এখানে গিয়ে এমন কিছু করবেন না যাতে বাংলাদেশের নাম খারাপ হয়। এখানকার মানুষেরা বাংলা বুঝে না বা খুব কম বুঝে । তাই হিন্দি জানলে আপনার সব ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। নিচের ভিডিওতে আমাদের যাত্রা পথের অপূর্ব কিছু ভিঊ পাবেন। ভালো থাকবেন সবাই ।.গ্রুপে আমার ভ্রমণ বিষয়ক অন্যান্য পোস্ট গুলো=================================১. নিজে নিজে ই-টোকেন ছাড়া ইন্ডিয়ান ভিসা করুনঃ http://bit.ly/2o6iOCv .২. মাত্র ১৮৬ ডলারে ঘুরে আসুন ঢাকা-কলকাতা-আগ্রা-দিল্লী-মানলী-আম্রিতাসর-ঢাকাঃ http://bit.ly/2pF8qig.৩.বাংলাদেশে বসে নিজেই ইন্ডিয়ান রেলওয়ের টিকিট কাটুনঃ http://bit.ly/2pF89yL.৪. মাত্র ৫০০ টাকায় ঘুরে দেখুন কুমিল্লার A to Z : http://bit.ly/2pibWlG.৫. মাত্র ২৫০ টাকায় ঘুরে আসুন বালিয়াটি জমিদার বাড়ি: http://bit.ly/2q7Ihfu.৬. বিছানাকান্দি ভ্রমণঃ http://bit.ly/2ryYpXH.৭. মাত্র ১২২০ টাকায় ঘুরে আসুন চন্দ্রনাথের পাহাড় , সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক , সহস্রধারা ও সুপ্তধারা ঝরনা: http://bit.ly/2rOPpen.৮. রানী ময়নামতির প্রাসাদঃ http://bit.ly/2rShJfl.৯. কলকাতা মেট্রো রেলের A to Z: http://bit.ly/2tyFnBU.১০. কিভাবে ভ্রমন খরছ কমাবেনঃ http://bit.ly/2tKtB58.১১. রবিন্দ্র সরোবর কলকাতাঃ http://bit.ly/2iKrfBW.১২. কালিম্পং- লাভা- রিশপ ভ্রমনের গল্পঃ https://bit.ly/2MdkMbs.১৩. ঘুরে দেখা স্বর্ণ মন্দির, আম্রিতাসর, পাঞ্জাবঃ http://bit.ly/2AnxYcr.১৪. ঘুরে দেখুন অভিবক্ত বাংলার রাজধানী এ সিটি অফ হিস্টরি মুর্শিদাবাদঃ https://bit.ly/2oRFowX..নোটঃ যেখানে সেখানে প্লাস্টিক ব্যাগ বা ময়লা ফেলবেন না। পরিবেশ কে সুন্দর রাখুন। ভালো থাকবেন সবাই।

Posted by রেজওয়ানুল কবীর on Saturday, September 8, 2018

Print Friendly, PDF & Email

Check Also

মা নেই বলে

মা নেই বলে সাজেদুর আবেদিন শান্ত মা আজ তুমি নেই বলে, সুর্য উঠেনি। মা আজ …